রংপুরস্থানীয়

অবশেষে তারাগঞ্জে ব্রাদার্স অটোমিলের বসানো পাইপের মাথা কেটে সেচ ক্যানেলে ফেলা দূষিত পানি বন্ধ করে দিয়েছে-পাউবো

অটোমিল থেকে মাটি খুঁড়ে মাটির নীচ দিয়ে পাইপ এনে এভাবে সেচ খালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেমিক্যাল মেশানো দূষিত পানি। যা চলে যাচ্ছে কৃষকের আবাদি জমি। ফলে জমির মাটি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে।

তারার আলো খবর:
তারাগঞ্জ উপজেলায় ব্রাদার্স অটো রাইসমিলের দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি গোপনে রাতের আধাঁরে মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বগুড়া সেচ খালে (ক্যানেলে)ফেলছে।

ফলে এ বিষাক্ত পানির কারণে কৃষকের ইরি-বোরো ক্ষেত সহ জমি গুলো বিষাক্ত হয়ে পড়ায়, রংপুর ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তদন্ত করে।

তদন্তকালে তারা মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসানোর অস্তিত্ব খুঁজে (প্রমাণ)পেয়ে ক্যানেলে নেমে দেওয়া পাইপের মাথা কেটে দিয়ে তা আপাতত বন্ধ করে দেন। এসময় স্থানীয় কৃষক,মৎস্যজীবীরা সহ তারাগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সাধারণ সম্পাদক পাপন দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত একটি খবর ১৮ মার্চ সাপ্তাহিক তারার আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কমল কান্ত রায় জানান,তারাগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বগুড়া সেচ খালে (ক্যানেলে) তারাগঞ্জ চৌপথী বাসষ্ট্যান্ড ব্রিজের উত্তর দিকে ব্রাদার্স অটো রাইসমিল নামক মিলের দূষিত পানি রাতে আধাঁরে ক্যানেলে ফেলছে মর্মে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তার সত্যতা মিলেছে।

তিনি বলেন, কৌশলে তারা মাটি খুঁড়ে মাটির নীচ দিয়ে আন্ডারগ্র্যান্ড পাইপ বসিয়ে ক্যানেলে এনে পানির নীচে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে সাধারণভাবে বুঝার উপায় নেই সেখানে পাইপ আছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম সেখানে উপস্থিত হয়ে পাইপ খুঁজে বের করে পাইপের মাথা কেটে আপাতত পাইপটি বন্ধ করে দিয়েছি। সেচ খালে পানি ভর্তি থাকায় আপাতত পুরো পাইপ উঠানো সম্ভব হয়নি।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারী সেচ খালে তারা কেমিক্যাল মেশানো এ দূষিত পানি ফেলে হাজার হাজার কৃষকের ফসল সহ জমি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অটো রাইস মিলের দূষিত বর্জ্য, ছাই, তুষ, দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও মেশিনের বিকট শব্দে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ আইন অমান্য করে জনবসতি এলাকায় মানুষের বাসা-বাড়ি ঘেষে অবৈধভাবে এসব অটো রাইস মিল নির্মাণ করা হয়েছে। মিলগুলোতে নেই নিজস্ব পয়ঃনিস্কাশন ও বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবস্থা। মিলের বর্জ্য তুষ, গুড়া নছিমন করিমন,ভটভটিতে করে উম্মুক্তভাবে রংপুর-দিনাজপুর সড়ক দিয়ে বহন করে নিয়ে গিয়ে তিন ফসলি আবাদি জমিতে ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।

ফলে মিলের বর্জ্য তুষ, গুড়া, ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় পথচারী ও এলাকার শিশু, বয়োবৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে চোখের নানাবিধ সমস্যায়। এছাড়াও কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নীল রতন দেব জানান, মিলের বর্জ্য তুষ, গুড়া, ছাই বাতাসের সাথে মিশে বাতাস দূষিত হলে শিশু, বয়োবৃদ্ধরা অ্যাজমা,সিওপিডি,নিউমোনিয়া সহ আরও বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button