কুড়িগ্রাম

কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

তারার আলো খবরঃ
টাকুড়িগ্রামের উলিপুরে কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের ৮৮৬ জন হতদরিদ্র
শ্রমিকের ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান- ইউপি সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা
এ কাজে জড়িত বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। জনপ্রতি ৪ হাজার করে টাকা
জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে নেয়া হয় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে প্রকল্পের
শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ
বিচ্ছন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নে।
সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের কয়েকটি চর-দ্বীপচর ঘুরে ভূক্তভোগিদের সাথে কথা বলে
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ওই ইউনিয়ে কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের
আওতায় দু দফায় ৮৮৬ জন হত দরিদ্র শ্রমিক কাজ করেন। প্রথম দফায় প্রকল্পের শ্রমিকরা
কাজ শুরুর সপ্তাহ খানিকের মাথায় কাজ বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। পরে
প্রকল্পের শ্রমিকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের যোগসাজশে ভূগর্ভস্থ
থেকে বালু তুলে কাজ করা হয়। সেসময় শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলেও তাদের নানান ভাবে
হুমকি দেয়া হয়। এরপর ৮৮৬ জন শ্রমিক দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু করলে তা জুন
মাসে শেষ হয়। ২০০ টাকা মজুরী হারে ৮৮৬জন শ্রমিকের ৮০ দিনের পাওনা হিসেবে ১
কোটি ৪১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। গত শনিবার (৩১ জুলাই) ওই ইউনিয়নের চর
দুর্গাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিতরণ করার কথা। এসময় শ্রমিকদের
মজুরী বিতরণের উদ্বোধন করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা
সিনাজুদ্দৌল্লা, ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মন্ডলসহ সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ও
ব্যাংক কর্মকর্তা, ইউপি সদস্যগণ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা কর্মী
উপস্থিত ছিলেন। ৮০ দিনের মজুরী হিসেবে প্রত্যেক শ্রমিকের হাতে ১৬ হাজার করে
টাকা তুলে দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। টাকা নিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকদের
উপর হামলে পড়েন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের লোকজন। এসময় শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে
ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মন্ডল, পরিষদের মেম্বারগণ ও তাদের লোকজনের সাথে
বাকবিতন্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪
হাজার করে জোর পূর্বক হাতিয়ে নেন। হাতে পায়ে ধরে তাদের হাত থেকে রক্ষা পাননি
হতদরিদ্ররা। এসময় শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মন্ডল,
পরিষদের মেম্বারগণ ও তাদের লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা
ঘটে। পরে সাহেবের আলগা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে
আনেন।
প্রকল্পের শ্রমিক,মফিজুল ইসলাম, জেলহক আলী, দেলওয়ার হোসেন, হাসিনা বেগম,
শহিদ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রথম দফায় ৪-৫ দিন কাজ
করার পর মেম্বারের লোকজন আমাদের কাজ করতে নিষেধ করেন। পরে তারা ড্রেজার মেশিন
দিয়ে বালু ভরাট করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের কে পুরো মজুরী দেয়ার কথা
বলেন। পরের বার আমরা ৪০ দিনই কাজ করছি। সে হিসেবে আমরা ১৬ হাজার টাকা
মজুরী পাওয়ার কথা। কিন্ত টাকা তোলার পর চেয়ারম্যানও মেম্বারের লোকজন ও স্থানীয়
আ‘লীগ নেতা আফতার হোসেন জোর করে আমাদের কাছে ৪ হাজার করে টাকা
হাতিয়ে নেয়। আমরা টাকা দিতে না চাইলে নানান ভয়ভীতি দেখান। যারা টাকা না
দিয়ে পালিয়ে এসেছে এখন মেম্বারের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকার জন্য
হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানান তারা। এ পরিস্থিতে এসব অসহায় শ্রমিকরা চরম আতংকে
দিনপার করছেন।
সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মন্ডল বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু
জানা নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌল্লা বলেন, ওই এলাকায় একটু
সমস্যা ছিল। আমরা সেটা সমাধান করে সুবিধাভোগিদের হাতে ১৬ হাজার করে
টাকাই তুলে দিয়ে দিয়েছি। এখন যদি কেউ কাউকে টাকা দিয়ে থাকে, সেখানে
আমার কিছু করার নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, বিষয়টি আমি
বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ
ব্যাংকের লোকজন সুবিধাভোগিদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছে। তবে কেউ টাকা
নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button