নীলফামারীস্থানীয়

কিশোরগঞ্জে লুপ কাটিংয়ের মাটি লুট ও ব্লক নির্মাণে অনিয়ম বন্ধ হয়নি

কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবেরে চাড়াঁলকাঁটা নদীর লুপকাটিংয়ের মাটি লুট ও সিসি ব্লক নির্মানে অনিয়ম বন্ধ হয়নি।

নীলফামারী ৪ আসনের এমপি সরেজমিন পরিদর্শন করে এ অবস্থা দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে কিছুদিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এমপির নির্দেশ থোরাই কেয়ার করা হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শন ও অভিযোগে সুত্রে জানা গেছে, গাংবের এলাকায় চাঁড়ালকাটা নদী সোজাকরনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ৬২ লাখ ও লুপকাটিং অংশে ডান ও বামতীর সংরক্ষনের জন্য সিসি ব্লক নির্মান কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কিন্তু সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক শ্রেনীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মুল হোতা রফিকুল ইসলাম ফকির ও খোকনের নেতৃত্বে ড্রামট্রাক ও মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে করে প্রতিদিন মাটি লুট করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ওই মাটি এক জায়গায় স্তুপ করে রাখার কথা । এতে সরকারের কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হত বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়।

এদিকে লুপকাটিং অংশে ডান ও বামতীর সংরক্ষনের জন্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার সিসি ব্লক নির্মানে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ব্লক নির্মানে গ্রেট বিহীন বালু ও অনেকাংশে মরা লাল পাথর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের জোড়ালো এসব অভিযোগ পেয়ে নীলফামারী ৪ আসনের এমপি আহসান আদেলুর রহমান আদেল প্রকল্প এলাকায় গিয়ে অভিযোগের সত্যতা নিরুপন করেন।

ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব কাজ কিছুদিনের বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এমপির নির্দেশকে উপেক্ষা করে গতানুগতিকভাবে কাজ চলমান রেখেছে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বামতীর সংরক্ষনে ব্লক নির্মান কাজ এখোনো শুরু না হলেও প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।

প্রকল্প এলাকার ডাবলু মিয়া,সাইদুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব রশিদুল ইসলাম মোকলেছার রহমান ও নিতাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু বলেন, এমপি প্রকাশ্যে দুনীর্তি ধরে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন দুনীর্তিবাজরা প্রকল্পের টাকা লুটপাট করার জন্য কাজ চলমান রেখেছেন।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ব্লক নির্মান কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। তাছাড়া ব্লক নির্মানের পর সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় মানসম্মত ফলাফল এল তবে কাজে ব্যবহার করা হবে।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (তৎকালিন) নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এমপি মহোদ্বয়ের সাথে আমি কথা বলেছি। তিনি কাজের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করলেও লিখিতভাবে কোন কিছু বলেনি। তাই কাজ বন্ধ রাখার প্রশ্নই আসেনা।

ব্লক নির্মান কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এ কে এন্ড কেসি ইএল জেএন এর মালিকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি ব্যাস্ততার কথা বলে সংযোগটি কেঁটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

নীলফামারী ৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল জানান, আমি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ব্লক নির্মান কাজে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার দেখে তাৎক্ষনিক নির্মান কাজ বন্ধ করার জন্য সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button