রংপুরস্থানীয়

টাকুর আলীর বয়ান

মোর একটা বড় ব্যাটা আছে। অর নাও তো টগরু আলী। অয় যখন জন্মিছে তখন মোর দাদি বাচি আচিলো। মোর দাদী ফির মোর নায়ের আইসে অরো নাও থুছিলো টগরু আলী। টগরুর ফির হামার একনা ব্যটা। অর নাও ফির হামার বাড়ির বুড়িটা থুইছে টগর আলী।

নাতিটা মোর খুব চালাক। একে বারে কাউয়ার বাচ্চা। নাই দ্যাখেন তা ডিজিটলি ছওয়া। অয় ফির হামার বন্দরের না একটা ইন্ডার গাডেন ইস্কুলত পড়ে। মাথা খুব ভালো। পড়া শোনাত খুব ফাঁক। পরীক্ষাত বেলে ফাস হছিলো। সেই জন্যে বেলে মাষ্টারের ঘরে অক পুরুস্কার দিছে। কোন বা অপিসার একটা করি ফির আম গছের চারা দিছে। ২দিন ধরি মোর মাথা খায়ছে গছটা কোনটে নাগাইবে। অর গছের চারা দেখি মোর হুক্কুত করি ফম হইল, বাইসালী দিনত গাছ নাগাইলে বত্তিবে। তা অক কনু দাদা আইজ তো তোর ইস্কুল বন্দ, তা হাট য্যয়া আর কয়টা গছের চারা আনি এক সাথে গারমো এলা। দাদায় নাতি কেনেলের ওপর দিয়া হাটি হাটি হাট যাইছি। যাইতে যাইতে অয় মোক কয়ছে দাদা তুই যে একদিন গল্প করলু তোমার বেলে বড় বড় ম্যলল্যা গছ আছিলো। আর তোমরা বেলে কাউয়া পকিরটে আম চাইলে কাউয়া পকি ফির বেলে আম ফ্যলে দিছিলো। কতাটা ফির অর ফম আছে। মেলাদিন আগত অর সথে গপ্প কচ্ছুনু। অক কওছো টগররে ঐলা কথা আর কইস না। কইলে মোর কান্দোন বেড়ায়। যুদ্দের সময় মুই তোর চ্যয়া বড় চেংরা। নেংটি পিদ্দিয়া গছের তলত যাই।

বিখ্যাত মোটা মোটা গছ। শিয়ান মাইসো ওলা গছত চড়ির পায় না। আর আমে আম। তখনতো আর এতুগুলা মানুষও আছিলো না। হামরা খালি দুই তিনজোন চেংরা গাছেত তলত য্যয়া হানে খালি যদি কছি- কাউয়া হামার দাদা আম ফ্যালে দে পাকা। পকি হামার সদর ভাই, আম ফ্যালে দে বাড়ী যাই।” কওয়ার সাথে দ্যরেত দ্যরেত করি আম পড়ে। টগর আলি মোক কয়ছে দাদা এলা ক্যানে কাউয়া পকি হামাক আম ফ্যালে দেয় না। অক কনু দ্যাখ এখন অত বড় আমের গছেই নাই। আর কাউয়া পকিও আম ফ্যালে দেয় না।

বড় বড় গছ ছিলো তো ওলাতচড়ি আম পারেবারে পায় নাই। আর আম পাকি পাকি গুলগুলা হয়া বোঁটা নরম হয়য়া যায়। পকিগুলা আম খাবার জৈন্যে পাকা আমের ঠালত পইলে আম ফুসসুত করি খসি পড়ে। নাও হয় পকি আম ফেলে দিলে। বুঝছিস টগররে আগত হামরা গছের ছ্যয়য়াত শব বিচি গরমের দিন শুতিনিন গেছিনো। এ্যখোন নিন যাওয়া তো দুরের কতা ফল খওয়ারে গছ নাই। আগত কত ফল খাছি। নটকো খাছি, পানিয়াল খাছি, ব্যাল খাছি আরও কত ফল যে খাছি তার ইয়াত্যা নাই।

হামার এলার জৈন্যে গজ খুব উপকারী। জানিস দুইটা গজ ব্যচেয়া তোর ফুফুর মুই বিয়া দিছিনু। এখন হামাক বেশী করি গজ লাগের নাইকবে। তা না হইলে হামার খুব ক্ষতি হইবে। আগত হামরা সদ্দি জ্বরত হার বকসার পাতের রস খ্যায়া ভালো হইছিনো। গল্প করত্তে করত্তে হাটত গেইনো। দোনে জোনে আনা মিঠাই খ্যায়া গছের চারা কিনি ভ্যনত নিয়া বাড়ী আসির ধইরনো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button