রংপুরস্থানীয়

তারাগঞ্জের ইটভাটাগুলোতে চলছে শিশুদের দিয়ে ইট তৈরির মহোৎসব

প্রতিনিধি :-

রংপুরের তারাগঞ্জে ইট ভাটাগুলোতে স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিশুদের দিয়ে করানো হচ্ছে ইটভাটার ভারি ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাদেরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আর্থিক লোভ দেখিয়ে এসব কঠিন ও ভারি কাজে যুক্ত করছে ইট ভাটার মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

এতে করে শিশু শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিকে ব্যহত করা হচ্ছে তাদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষা কার্যক্রম অপরদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে ইটভাটার মালিকরা।

ইট ভাটাগুলোর মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় মানছে না অবাধে চলছে শিশুদের দিয়ে এসব কার্যক্রম।

বিষয়টি স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের ব্যাক্তিদের উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। কোমলমতি এই শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে সংকিত তারা। ভাটা মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা , ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনের নমনিয়তা আর নজরদারীকেই দায়ী করছেন তারা।

উপজেলায় ২১ টি ইটভাটার মধ্যে প্রায় অধিকাংশ ইট ভাটার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান ইট ভাটাগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ইটভাটাতেই দক্ষ ও প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের জায়গায় কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করে সেই সকল ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজ করানো হচ্ছে।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে অবস্থিত আরবিএল ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া প্রায় ১২/১৩ জন কোমলমতি শিশু ইটভাটায় ইট বানানো কাজে ব্যস্ত।

ইট বানানোর কাজে ব্যস্ত পারঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বুলবুল ও মেহেদীর সাথে কথা হলে তারা বলে, টাকার দরকার, তাই আইজ স্কুল যাই নাই। এটে কাম করির আইসলে কিছু টাকা পাওয়া যায়।

সাংবাদিক দেখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইটভাটায় কর্মরত একজন শ্রমিক বলেন, কয়লার দাম বেশী। বড় মানুষের মজুরি বেশী চায়। এই জন্যে ছোট ছওয়া কামোত নাগে দেয়। পাচ শো টাকার কাম এক দেড়শো টাকাতে হয়া যায়।

আরবিএল ইটভাটার ভাটার ম্যানেজার আখতারুজ্জামান সাংবাদিক দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলেন, যান সরকারকে বলেন এই বাচ্চাদের সংসারের দায়িত্ব নিতে। তাদের খরচ চালাতে।আমরাই এদের দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের ভাটায় কাজ করে খাবে। এখানে কাজ করা টাকায় তাদের সংসারও চলবে।

মুঠোফোনে আরবিএল ইট ভাটার মালিক আজিজুল হকের সাথে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও ম্যানেজারের কথায় একমত পোষণ করেন।

আরবিএল ইটভাটার পাশেই অবস্থিত এইচবিএল নামক আরেকটি ইট ভাটায় গেলে সেখানেও দেখা যায় শিশুদের দিয়ে চলছে ইট তৈরির কার্যক্রম। অফিস কক্ষে তালা দেওয়া থাকায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার আলমপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ধারে অবস্থিত এন.এস.বি ইট ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বেশ কয়েকজন শিশু শ্রমিক ঠেলাগাড়ি করে ইট তৈরির মাটি সরবরাহ করছে। ম্যানেজারের সাথে কথা বললে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, ইট ভাটায় শিশু শ্রমের বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে আপনি যেহেতু বললেন, আমরা বিষয়টি দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button