স্থানীয়

তারাগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এখন সময়ের দাবী

রংপুর জেলার পশ্চিমে অবস্থিত সবচেয়ে ছোট উপজেলার নাম তারাগঞ্জ। এখানে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন তারাবিবি (রঃ)। যার নামানুযায়ী এর নামকরণ করা হয় তারাগঞ্জ। তারাগঞ্জের দুই কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত বুড়াপীর সাহেবের মাযার। এখানে এক সময় চৌদ্দ একর খাস জমি ছিল,যা বুড়াপীর ডাঙ্গা নামে পরিচিত । বর্তমানে এখানে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল আদর্শগ্রাম। ঐ সময় এখানকার অধিবাসীরা এতটাই সহজসরল ও নীতিবান ছিল যে, ঐ খাসজমির এক টুকরাও কেউ দখল করে ভোগ করেননি। বরং বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে এখানে তারা বিনোদন কেন্দ্র বানিয়েছিলেন। প্রতিদিন বিকেলে কেউ বিনোদন দিতে, কেউ বিনোদন উপভোগ করতে আসত। একই সাথে তিন চারটি মাঠে বিভিন্ন বয়সের আবালবৃদ্ধবনীতারা খেলা করত। সবথেকে জমে উঠত যখন বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের ফুটবল খেলা হত। খেলা চলাকালে মাঠের চারদিকে হইহুল্লর আর এমন টানটান উত্তেজনা থাকত, এ যেন ব্রাজিল বনাম আর্জেটিনার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ। মেসি,নেইমার,এম বাপ্পের অভাব ছিলনা এই মাঠে। নেইমার স্টাইলের একজন খেলোয়াড় ছিলেন যার নাম আব্দুল্লাহ প্রামানিক। যিনি কয়েক মাস আগে ইন্তেকাল করেছেন (আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসি করুন)। তিনি নেইমারের মতই বল কেরি করে পাঁচ ছয়জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করতেন আবার কখনো পড়ে যেতেন। শুধু ফুটবল নয়, সবরকম খেলায় তিনি পটু ছিলেন।

খেলোয়াড়দের মধ্যে আরো যারা মাঠ মাতিয়ে রাখতেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মরহুম কবির উদ্দিন প্রামানিক মেম্বার (আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসি করুন), মোঃ ফয়েজ উদ্দিন প্রামানিক, মোঃ আতিয়ার সেক্রেটারী,মতিয়ার রহমান মতি,আব্দুল মান্নান প্রামানিক, খবির উদ্দিন প্রামানিক, জাহিদুল ইসলাম (লিবিট), হাবিবুর রহমান. আনোয়ার হোসেন আনো, লুৎফর রহমান লুতু, মোকছেদুল ইসলাম, আনারুল হক আনা,অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, দিপু প্রামানিক, গোলাম রব্বানি,তোফায়েল আহমদে শিপু,তোজাম্মেল হোসেন মিঠু, তরিকুল ইসলাম ফিটু,মাহমুদুল হাছান মিঠুএবং নামস্বরণ না থাকা আরো অনেকে। এখানে অবস্থিত হ্যালিপ্যাডে বর্তমানে নির্মিত হয়েছে শেখ রাসেল মিনি ফুটবল স্টেডিয়াম, কিন্ত আগের মত আর খেলা জমে না। এখান থেকে ১ কিঃমিঃ দুরে যমুনাস্বেরী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এক সময়কার পিকনিক স্পট হাওয়াখানা। যেখানে ফ্রেস হাওয়া আজো বহমান, সংস্কারের অভাবে মানুষ আর তা খায় না। এরকম অসংখ্য নিদর্শন আছে,যা বর্তমানও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরা এখন সময়ের দাবী। তারাগঞ্জের ঐতিহ্যবাহীহাট, স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান,প্রতিষ্ঠাতাসহ এর অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য তারার আলো পত্রিকায় কবিতা ও গল্গের মাধ্যমে লিখে নিজের ভবিষ্যৎ তারার মত আলোকিত করার জন্য শিক্ষিত যুব সমাজের প্রতি আহবান করছি। মানুষের এক পয়সা মূল্য নেই যদি তার ভালো কর্ম না থাকে। বাপদাদার সম্পত্তি নিয়ে বড়াই করে কী লাভ? পৈত্রিক সম্পত্তি মাইনাসকরে দেখুন, আমার আপনার আর দুইজন ভিখারীর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। পৈত্রিক সম্পতি পেয়েছি বলে আপনি আমি ধনী। আর তারা পায়নি বলে ভিখারী। ভালো কর্মই মানুষকে নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে দেয়। তাই বলছি অযথা ঘোরাঘুরি, মোবাইল গেম টিপাটিপি না করে অন্তত কিছু লেখালেখি অভ্যাাস করুন। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এবং আপনাদের সৗভাগ্য যে,আপনাদের দোড় গোড়ায় তারার আলো নামে একটি পত্রিকা আছে। যার জন্য একজন মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা বলতে গেলে তার জীবনের সবটুকু দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার লেখনি আপনাকে সমাজের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দেবে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।
লেখকঃ-
মোঃ আব্দুর রউফ মাসুদ
ঘনিরামপুর, তারাগঞ্জ,রংপুর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button