রংপুরস্থানীয়

তারাগঞ্জের পাঁচ ইউনিয়নে গণটিকা প্রদান,গণটিকা নিয়ে যা বললেন উর্দ্ধতম কর্মকর্তারা

তারার আলো খবর/ দিপক রায় : সারাদেশের ন্যায় আজ শনিবার রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে সুশৃঙ্খলভাবে গণটিকা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, তারাগঞ্জ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মোট ৩ হাজার মানুষকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ মানুষকে আজ শনিবার (৭ আগস্ট) এ টিকা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোর উক্ত ৬০০ টিকা গ্রহীতাদের বাছাই করেছে উক্ত ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিরা। সর্বনিম্ন ২৫ বছর বয়স বা তদুর্ধ ব্যক্তিদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের পর দেওয়া হয়েছে এই টিকা। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা অগ্রাধিকার পেয়েছে টিকা গ্রহনের ক্ষেত্রে। তবে গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও ২৫ বছর বয়সের নিচের ব্যক্তিদের এ টিকা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, করোনা টিকা গ্রহীতারা স্বতস্ফুর্তভাবে লাইনে দাড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা গ্রহণ করছে। এসময় কথা হয় উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের টিকা নিতে আসা রোকসানা (৩৫), ফাতেমা (২৮), রিপন (২৮), খাদেমুল (৩৫) সহ বেশ কয়েকজনের সাথে। তারা বলেন, তাদের কেউ টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করেননি। তারা নিজেদের ইচ্ছেতেই টিকা নিতে এসেছে। কুর্শা ইউনিয়নে টিকাদান কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনকারী মাহিন, সুশান্তসহ কয়েকজনের সাথে। তারা বলেন, মানুষজন অনেক সচেতন হয়েছে। দলে দলে মানুষ এসেছে আজ টিকা নিতে। যদিও এই ইউনিয়নে ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে, কিন্তু তারচেয়েও বেশি মানুষ এসেছে টিকা নিতে। হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বাবুল বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলার মধ্যে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে জনসংখ্যাও বেশি। মাত্র ৬০০ টিকা এই ইউনিয়নের জন্য কিছুই না। তারপরেও ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই গণটিকা কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। কথা হয় ইকরচালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের সাথে। তিনি বলেন, এই ইউনিয়নে অনেক টিকার প্রয়োজন আছে। আজ যদিও ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে কিন্তু টিকা নিতে মানুষ এসেছে অন্তত ১২০০ থেকে ১৫০০ পর্যন্ত। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে টিকা নিতে আগ্রহীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের প্রতি অনুরোধ রাখবো এভাবে যেন প্রত্যেকটা মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এসময় ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর টিকা কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসেন রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোতাহারুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলাম, রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার, ডেপুটি সিভিল সার্জন কানিজ সাবিহা ও তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটনের সাথে। রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোতাহারুল ইসলাম বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শুধু আজকেই নয়, এরপরেও এই গণটিকা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে এবং এই কার্যক্রম চলতেই থাকবে। প্রতিটি ইউনিয়নে আজকে টিকা নিবে ৬০০ জন। এরপর আবার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। প্রতি তারিখে ৬০০ জন করে এই টিকা নিতে পারবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে এভাবেই এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলাম বলেন, এপর্যন্ত আমরা ৩টি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। আমরা অভূতপূর্ব সারা পেয়েছি। যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা এই টিকাদান করতে পারছি তা খুব ভালো সমন্বয় হয়েছে। আজকে রংপুর বিভাগে আমরা প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার মানুষকে টিকা দিবো, এখন পর্যন্ত আমরা যে অভ‚তপূর্ব সারা পেয়েছি তাতে মনে হয় আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। আজকের প্রথম ডোজের পর দ্বিতায় ডোজ প্রাপ্তির বিষয়ে রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার বলেন, যদিও দ্বিতীয় ডোজের বিষয়ে এখনো কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি তবে আজকে প্রথম ডোজ যেভাবে দেওয়া হচ্ছে ঠিক একমাস পর দ্বিতীয় ডোজের টিকাও এভাবেই দেওয়া হতে পারে। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কানিজ সাবিহা বলেন, সরকারি নির্দেশনায় আজকে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলছে। আশা রাখি একমাস পর ঠিক এভাবেই আমরা দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button