রংপুরস্থানীয়

তারাগঞ্জে এবারে আলু সংগ্রহের শুরুতেই দ্বিগুন দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

আব্দুর রাজ্জাক :-
এবারে শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘন এবং ভারি বৃষ্টিতে আলুর ফলন ব্যাহত হয়েছে। এ মৌসুমে তারাগঞ্জেও ঘন এবং ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তবে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে সার, কীটনাশক আর কৃষকদের নিরলস পরিচর্যায় এবারে এ উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

আগের বছরগুলোর তুলনায় চাষাবাদে এবারে খরচ বেশী হলেও আলু সংগ্রহের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় তিন হিমাগারের আলু রাখার জায়গা নেই। হিমাগারের পক্ষ থেকে মাইকিং করায় বর্তমানে কৃষকেরা তাদের আলু সংরক্ষন করতে আশপাশের হিমাগারগুলোতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। গত বছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হলেও কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবারে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা আরো ১০৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আলু সংরক্ষন করতে উপজেলায় তিনটি হিমাগার রয়েছে। এই তিন হিমাগারে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু রাখার ধারন ক্ষমতা রয়েছে। এদের মধ্যে বামনদীঘির সিনহা স্পেশ্যালাইজড কোল্ড ষ্টোরেজে ৫ হাজার ৫০০ মে.টন, ইকরচালিতে এন,এন কোল্ড ষ্টোরেজে ৭ হাজার ৫০০ মে.টন এবং ঘনিরামপুরে ব্রাদার্স কোল্ড ষ্টোরেজে ১ হাজার ২৫০ মে.টন।

হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের খারুভাঁজ গ্রামের কৃষক আবু তাহের জানান, এবারে ২ একর জমিতে আলুর চাষাবাদ করেছি। কোন বছরেও দেখি নাই যে শীতকালে এতো ঘন আর এতো ভারী বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে আলুর ডালপালা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছিলো। দিন রাতের নিরলস পরিশ্রমে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। পরে অনুকুল আবহাওয়ায় সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। প্রায় ২০ দিন আগে রোপনকৃত ২ একর জমির আলু সংগ্রহ করার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীর নিকট কেজিতে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে দিয়েছি।

এতে করে জমি চাষ করা থেকে শুরু করে আলুর বীজ ক্রয়,বীজ রোপন, সার ও কীটনাশক প্রযোগ, সেচ ও পরিচর্যা এবং সংগ্রহ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেজিতে ১৫ টাকা দরে আলু বিক্রি করে লাভ হয়েছে আরো দুই লাখ টাকা। ওই ইউনিয়নের চাপড়াপাড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম, কিসামত মেনানগর বড়বাড়ি গ্রামের কৃষক বাবু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কৃষক মন্তব্য করেছেন যে, এবারে আলু চাষাবাদ করে যত খরচ হয়েছে। বিক্রি করার পর দ্বিগুন লাভ হচ্ছে।

ইকরচালি ইউনিয়নের মাটিয়াল পাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ২৮ শতক জমিতে আলু চাষাবাদ করে ৬০ কেজি ওজনের ৮০ বস্তা আলু পেয়েছেন। উক্ত আলু স্থানীয় বামনদীঘি সিন্হা কোল্ড ষ্টোরেজ নামক হিমাগারে সংরক্ষন করেছেন। বর্তমান বাজার দরে কেজিতে ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করলে ৮০ বস্তা আলুর দাম পাবেন ৬৭ হাজার থেকে ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

হিমাগারে সংরক্ষন পর্যন্ত ২৮ শতক জমির আলুর পিছনে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করলে লাভ হতো দ্বিগুন টাকা। কিন্তু ভাদ্র-আশি^ন মাসে ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি করলে হিমাগার ভাড়া বাদে খরচের তিনগুন টাকা পাবেন বলে এমন আশা করে রবিউল ইসলাম হিমাগারে আলু রেখেছেন।

এ উপজেলায় রবিউলের মতো হাজারো কৃষক এবারের খরচের তিনগুন লাভের আশায় তাদের চাষাবাদকৃত আলু সংগ্রহের পর স্থানীয় তিনটি হিমাগার সিনহা, এন,এন ও ব্রাদার্স কোল্ড ষ্টোরেজে আশপাশের উপজেলা হিমাগারগুলোতে সংরক্ষন করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাস্সুম জানান, আমারা সবসময় কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকার কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছি। বর্তমানে আলু সংগ্রহ ও সংরক্ষন অব্যাহত রয়েছে।

এবারে উপজেলায় ৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ লাখ মে.টন আলু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে যা তিন হিমাগারের ধারন ক্ষমতার পাঁচগুন বেশী। তবে ফলন এবং ভালো দাম পাওয়ায় এবারে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button