রংপুরস্থানীয়

তারাগঞ্জে এবারে এসএসসি পাশের পর মা ও ছেলের কলেজে ভর্তি

[ মা হাবিবা বেগম (৪২) ও ছেলে তাওহীদ ইসলাম কলেজে ভর্তি হয়েছেন।-ছবি- তারার আলো ]

আব্দুর রাজ্জাক :

এতো দিনে শুনেছি পিতা-মাতার ঘরে থেকেই সন্তানেরা ভালোভাবে লেখাপড়া করে অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উজ্বল করে পিতা-মাতার মুখ । এটাই তো চিরন্তন নিয়ম কিন্তু এখন দেখছি তার সাথে আরো একটি। কথায় আছে না? লেখাপড়া করে যে. গাড়ী ঘোড়ায় চড়ে সে।

তাই পিতা-মাতার ঘরে থাকা এক কন্যা সন্তানের অসমাপ্ত লেখাপড়া সম্পন্ন করতে এবং চাকরির প্রত্যাশায় স্বামীর সংসারে থেকে লেখাপড়া করতে স্বপ্ন জেগেছে এক নারীর।

স্বামীর সংসারে গিয়ে ২৭ বছর ঘর-সংসার করার পাশাপাশি চল্লিশ উর্ধ এই নারী তার প্রথম পুত্র সন্তান তাওহীদ ইসলাম সাগরের সাথে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা-ছেলে উভয়েই পাশ করেছেন। মা পেয়েছেন জিপিএ-৪.৩২ এবং ছেলে তাওহীদ পেয়েছে জিপিএ ৪.৩৯। ছেলের সাথে এসএসসি পাশ করা এই নারীর নাম হাবিবা আক্তার(৪২)।

হাবিবা আক্তার তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বাঙ্গালীপুর গ্রামের মৃত ঝুমুর আলীর মেয়ে ।

বুধবার হাবিবা আক্তার স্থানীয় কাজীপাড়া আইডিয়াল ওমেন টেকনিক্যাল (মহিলা বিএম) কলেজে নিজেই ভর্তি হয়েছেন এবং ছেলে তাওহীদকে অপর একটি তারাগঞ্জ টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি করে দিয়েছেন। হাবিবা জানান, ২৭ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমার দাম্পত্য জীবনে মাত্র দুটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

বড় ছেলে তাওহীদ ইসলাম ওরফে সাগরের সাথে এবারে এসএসসি পাশ করলাম আর ছোট্ট ছেলে তুহিন হাবিব ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ে। এর আগে বাপের বাড়িত থাকতে আমি ১৯৯৪ ইং সালে এসএসসি পাশ করি। কলেজে ভর্তি না হতেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। অভাব অনটন আর শশুর পরিবারের পারিবারিক চাপে আমার পক্ষে লেখাপড়া করা আর সম্বভ হয় না।

সংসার জীবনে চাকরির বেশ কয়েকটি অফার আসলেও উচ্চ শিক্ষা অর্জনের অভাবে ভাগ্যে একটি ভালো চাকরি জোটেনি।

এসএসসি’র সার্টিফিকেট দিয়ে এনজিওতে যেটুকুই চাকরি করেছি। এতেই আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে যে. চাকরির মজাটা কি ? আধুনিক থেকে বর্তমানে অত্যাধুনিক যুগে এসে পৌঁছেছি। সংসার জীবন একটু স্বচ্ছলও হয়েছে। স্বামীর সংসারে থেকে স্বপ্ন জেগেছে আবারো লেখাপড়া করার।

তারাগঞ্জ নতুন চৌপথীস্থ বেগম রশিদা শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের সহযোগিতায় চিলাপাক উচ্চ বিদ্যালয়ে আমি(মা হাবিবা) ও ছেলে তাওহীদ ইসলাম একসাথে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া এবারে সএসসি পাশ করে দু’জনেই কলেজে ভর্তি হয়েছি।

মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করি লেখাপড়া শেষ করে কপালে যেন একটি ভালো চাকরি জোটায়। এতে করে সামাজিকভাবে পরিবার পরিজনের মুখ যেমনি উজ্বল হবে তেমনি আমার সংসার জীবনেরও উন্নয়ন ঘটবে।

তারাগঞ্জের কাজীপাড়া আইডিয়াল ওমেন টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো: আনিছুল হক জানান,হাবিবা খাতুন আজ বুধবার আমাদের কলেজে ভর্তি হয়েছেন। হাবিবা খাতুনের লেখাপড়া শেখার আগ্রহ আমাদের সকলকে অবাক করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button