রংপুরস্থানীয়

তারাগঞ্জে ভুল কীটনাশক প্রয়োগে বর্গা চাষীর ইরি ধান ক্ষেত পুড়ে গেছে

তারার আলো খবর:-
রংপুরের তারাগঞ্জে ব্যবসায়ীর দেয়া ভুল কীটনাশক প্রয়োগে এক বর্গা চাষীর প্রায় দেড় একর জমির ইরি ধান ক্ষেত পুড়ে গেছে । এতে ওই চাষীর প্রায় ৫০ হাজারের অধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর মিস্ত্রীপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটানোর প্রায় এক সপ্তাহ পর উপজেলা কৃষি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বর্গা চাষী ও তার পরিবারের অভিযোগ করেন, উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর মিস্ত্রীপাড়ার গ্রামের আলমগীর হোসেন(২৮) এবারে চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় একর জমি বর্গা নিয়ে ইরি ধান চাষাবাদ করে আসছেন।

আর মাত্র ক’দিন পরেই ধানের শীষ বের হবে। এমতাবস্থায় ধান ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমন দেখা দেয়ায় বর্গা চাষী আলমগীর হোসেন প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় দীঘির পাড়ের মোড় নামক স্থানে অবস্থিত “আলিজা ট্রেডার্স” নামক কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে মাজরা পোকা দমনের ওষুধ চাইলে ওই দোকানের সত্বাধিকারি আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বর্গা চাষীকে কীটনাশক দেন এবং ধান ক্ষেতে প্রয়োগের পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়ীর পরামর্শ অনুযায়ী বর্গা চাষী তার ধান ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করার দুই দিন পরেই গিয়ে দেখতে পান যে, প্রায় দেড় একর জমিতে লাগানো ইরি ধান ক্ষেত পুড়ে গেছে।

পরে ক্ষতিগ্রস্থ চাষী ও পরিবারের লোকজন কীটনাশক ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করার পর নিশ্চিত হয়ে তিনি চুপিসারে ক্ষতিপুরন হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দেয়ার স্বীকার করেন এবং বিষয়টি এলাকার অন্য কাউকে বলতে নিষেধ করেন।

পরে ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মানিক মিয়াসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তির মাঝে বিষয়টি ছড়াছড়ি হলে গতকাল ২৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাস্সুম ওই এলাকার দায়িত্বরত এসও শিরিনা বেগমকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধান ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

পরে কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে পরিদর্শন করার সময় মেয়াদোর্ত্তীর্ন কয়েকটি কীটনাশকের বোতল পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলেন এবং ব্যবসায়ীকে দোকান বন্ধের জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button