রংপুরস্থানীয়

তারাগঞ্জে ৪০ দিনেও মজুরির টাকা পায়নি শ্রমিকরা,সোমবার (২১ মার্চ)কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে

তারার আলো খবর:-
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কর্মসৃজন প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ সোমবার (২১ মার্চ) শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক দিনের মজুরিও পায়নি শ্রমিকেরা।

দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে শ্রমিকেরা মজুরির টাকা না পেয়ে ধার-দেনা করে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২৫ জানুয়ারীতে কর্মসৃজন প্রকল্পে নিয়োজিত ৯০০ জন হতদরিদ্র (নারী-পুরুষ) শ্রমিক উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৫টি ওয়ার্ডে একযোগে মাটি কাটার কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে দলপতি রয়েছেন। মাটি কাটার কাজ করে সাধারন শ্রমিকেরা এক দিনের মজুরি পাবেন ৪০০ টাকা আর দলপতিরা পাবেন ৪৫০ টাকা।

হাড়িয়ারকুঠির ৭নং ওয়ার্ডে মাটিকাটার কাজে নিয়োজিত হামেদা বেগম (৫২) সোমবার এ প্রতিনিধিকে বলেন, মোর স্বামী অচল। কোন কাজ কইরবার পায় না। নয়া মেম্বারক কয়াবলি ধারদেনা করি কিছু টাকা দিয়া মোর মাটি কাটার কাজটা হইল। কাম করি আরো দ্যানোত পড়ি থাকিনো। আগোত ব্যাংকোত থাকি টাকা দিছিলো। সাত দিনের টাকা এক দিনে পাইছিনো।

এবার বেলে মোবাইলোত টাকা দেবে তা ৪০ দিনেও পাওছি না। একই ওয়ার্ডের শ্রমিক পেয়ারা বেগম বলেন, মোর স্বামী পঙ্গু। স্বামী আর ছাওয়াছোটক মোকে পুষপার নাগে। এই দিনোত তরিতরকারি আর জিনিস জানাসের দাম আকাশোত উঠছে। ৪০ দিনে ঋণ হইছে ১৫ হাজার টাকা। এবার বেলে রকেটের মাধ্যমে টাকা আইসবে। ৪০ দিন শেষে হইল, এলাও রকেট আইসে না।

এছাড়া হাড়িয়ারকুঠির ৫নং ওয়ার্ডের নিয়োজিত শ্রমিক শ্যামল বালা(৪৪), সাইদুল ইসলাম(৪২), নাছিমা আক্তার(৪২), সয়ার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আবু মিয়া(৫০), ৫নং ওয়ার্ডের হরিষ বাবু(৫১), ৬নং ওয়ার্ডের জয়নব বেগম(৪৯), আলমপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেক(৪০), লাল্টু মিয়া(৩৫), ৬নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিমসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের শ্রমিক(নারী-পুরুষ) ঠিক একইভাবে কথাগুলো বলেন।

আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রাসেল জানান, কর্মসৃজন প্রকল্পে আলমপুরে বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলে ১৬৭ জন শ্রমিক রয়েছে। আগের বছরগুলোতে ব্যাংকের মাধ্যমের সপ্তাহের ব্যবধানে শ্রমিকেরা মজুরির টাকা পেতেন। এবারে মোবাইল বিকাশ রকেটের মাধ্যমে টাকা পাবেন। অনলাইন করতে দেরী হওয়ায় শ্রমিকদের টাকা পেতে দেরী হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) প্রকৌশলী আলতাব হোসেন জানান, শ্রমিকদের প্রত্যেকের মোবাইল ফোনে রকেট একাউন্ট খোলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। কুর্শা ইউনিয়নের শ্রমিকরা টাকা পেয়েছেন। শীঘ্রই অন্যান্য ইউনিয়নের শ্রমিকেরাও পাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button