নীলফামারী

পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনের মাধ্যমে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে- কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার, সৈয়দপুরঃ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেছেন, মানুষের পেটে শুধু ভাত দিলেই হবে না। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর তথা ভিটামিন জাতীয় খাদ্য খুবই প্রয়োজন। তাই মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুষ্টির সমস্যা দূরীকরণে দেশব্যাপী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৪৩৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পে আওতায় গোটা দেশে প্রতিটি ইউনিয়নে এক শ’ টি করে পাঁচ লাখের বেশি পারিবারিক পুষ্টি বাগন স্থাপন করা হবে। এতে আমাদের দেশের পতিত জমিগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহারের পাশাপাশি মানুয়ের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। আর দেশের মানুষ পাবেন পুষ্টিকর তথা ভিটামিন জাতীয় খাবারও। সেই সঙ্গে কৃষক পরিবারগুলো নিজেদের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে পারিবারিক পুষ্টি বাগান থেকে বাড়তি কিছু আয় করতে পারবেন। সুযোগ সৃষ্টি হবে নারীদের কর্মসংস্থানেরও।

তিনি ( কৃষি সচিব) গতকাল শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কামারপুকুর কৃষি ব্লকের বক্শাপাড়ার কৃষক এনামুল হকের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় স্থাপিত প্রদর্শনী পারিবারিক পুষ্টি বাগান পরিদর্শনকালে এ কথাগুলো বলেন।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ বিধূ ভুষন রায়, নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.আজাহারুল ইসলাম, নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন, নীলফামারী জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল, কৃষি তথ্য সার্ভিস রংপুর, রিজিয়ন অফিসের খামার সম্প্রচার অফিসার ড. মো. রেজাউল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মাহ্মুদুল হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাহিনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মমতা সাহা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান আশা ও মেরিনা আক্তারসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশব্যাপী অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ২৭টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। এর একটি স্থাপন করা হয়েছে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কামারপুকুর কৃষি ব্লকের বক্শাপাড়ার কৃষক এনামুল হকের বসতবাড়ির আঙ্গিনায়।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক এনামুল হকের বাড়ির আঙ্গিনায় দেড় শতক আয়তনের জমিতে স্থাপিত পারিবারিক পুষ্টি বাগানের বিভিন্ন রকম শাক-সবজির পাশাপাশি নানা রকমের ফলমূলের গাছও রোপন করা হয়েছে। আর এ বাগানো লাগানো ফলমূল ও শাক সবজি চাষে কোন রকম কীটনাশক কিংবা রাসায়নিক সারের ব্যবহার নেই। এ সব পাারিবারিক পুষ্টি বাগানে ওই কৃষকের নিজের তৈরি ভার্মি কম্পোর্ট সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পারিবারিক পুষ্টি বাগানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমুল কৃষক এনামুল হক তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে আয় করচ্ছেন। এতে করে যেমন একজন কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সেখানে উৎপাদিত শাকসবজি দিয়ে একটি পরিবারের নিত্যদিনের চাহিদা মিটানোর ফলে আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারছেন। আর পরিবারটির সদস্যরা প্রতিনিয়ত খেতে পাচ্ছেন রাসায়নিক কীটনাশকমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল।

পরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত কফি, ত্বীন ফল ও কমলা বাগান পরিদর্শন করেন। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ধুদ্ধকরণের মাধ্যমে চাষি আয়াজ ওয়ারিশ খান ওয়ারসি তাঁর দুই একর জমিতে দুই হাজার কফি গাছের চারা, ৪০শতক জমিতে ১০০টি কমলা গাছের চারা ও ৫ শতক জায়গায় ২০টি ত্বীন ফলের চারা রোপন করেছেন। পরে সেখানে এক কৃষক সমাবেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব স্থানীয় কফি চাষীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করেন। বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে দুইটি স্প্রে মেশিন ও দুই হাজার পিস সিলভামিক্স ট্যাবরেট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button