নীলফামারী

ফলোআপ:সৈয়দপুরে নিখোঁজ গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার,সৈয়দপুর (নীলফামারী):
নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজের চার দিন পর গৃহবধূ লাভলী বেগমের (২৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর মামা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের বাঘাচোড়া দেউলপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে বাবু (৩৫) বাদী হয়ে গত শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সৈয়দপুর থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় নিহত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী, ভাশুর-জাসহ সাতজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলার আসামীরা হচ্ছে, নিহত গৃহবধূ লাভলীর স্বামী রেজাউল মন্ডল (৩০), শ্বাশুড়ী এছরা বেগম (৫০), শ্বশুর আফজাল আলী(৬০), জা মোছা. সুমি বেগম (৩০), ভাশুর মো. ইফসুফ আলী (৩৫) এবং প্রতিবেশি ভোলা মজিবরের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৬) ও পার্বতীপুরের বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর হরিরামপুর দেউলপাড়ার মো. আব্দুল মজিদের ছেলে সোহেল রানা (২৫)। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা ২/৩জন ব্যক্তিকেও আসামী করা হয়।

মামলায় এজাহার নামীয় সাত আসামীর মধ্যে নিহত গৃহবধূর স্বামী রেজাউল মন্ডল ও শ্বাশুড়ী এছরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত উল্লিখিত দুই আসামীকে গতকাল শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে আদালতের মাধ্যমে নীলফামারী কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পশ্চিমপাড়ার (নদীরপাড়া) আফজাল আলীর ছেলে রেজাউল ইসলামের স্ত্রী লাভলী (২৫)। সে (লাভলী বেগম) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা ২ নম্বর মন্মথপুর ইউনিয়নের দলবাড়ীপাড়া এলাকার তাজনগর বলামপুর গ্রামের মো. বাবলু হোসেনের মেয়ে।

লাবিব (৬) এবং মোছা. মোছা. মাওয়া (৪) নামের দুই সন্তানের জননী গৃহবধূর লাভলী বেগমের মরদেহ গত শুক্রবার সকালে স্বামীর বাড়ি উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পশ্চিমপাড়ার তাঁর বাড়ির পিছনের একটি বাঁশঝাড়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। আর এ ঘটনার চার দিন আগে থেকে অর্থাৎ গত ২৩ নভেম্বর থেকে গৃহবধূ লাভলী বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।

তার নিখেঁাঁজের বিষয়ে গত ২৫ নভেম্বর সৈয়দপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়। এছাড়াও তার সন্ধানে গোটা এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হয়েছিল। বাঁশঝাড় থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রেজাউল মন্ডল (৩০)ও শ্বাশুড়ী এছরা বেগমকে (৫০) আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে ওই মামলায় তাদের এজাহার নামীয় আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, নিহত গৃহবধূ লাভলীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান নিখোঁজ গৃহবধূ লাভলী নিখোঁজের চার দিন পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক নিহত গৃহবধূ স্বামী ও শ্বাশুড়ীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button