রংপুরস্থানীয়

বদরগঞ্জে একই ইউপিতে আপন তিন ভাই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন

কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না , করছে একে অপরের বিষাদাগার,পারিবারিক বিরোধ ও জেদ থেকে তারা এ ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বলে ভোটার ও এলাকাবাসী জানান

বদরগঞ্জ প্রতিনিধি / তারার আলো খবর:-

আসন্ন চতুর্থ দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রংপুরের বদরগঞ্জে একই ইউনিয়নে আপন তিন ভাই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেননা। ইউনিয়নটি হচ্ছে উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ।

তাদের এ ভোট যুদ্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনার বেশ ঝড় উঠেছে বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ সহ রংপুরের প্রায় সর্বত্র।
পারিবারিক বিরোধ ও জেদ থেকে তারা ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বলে এলাকার সাধারন ভোটাররা জানান।

আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তারািআপন তিন ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারা হলেন, শহিদুল হক (আনারস প্রতীক), মোতালেব হোসেন (ঘোড়া প্রতীক) এবং একরামুল হক (মোটরসাইকেল প্রতীক)।

ভোটাররা জানায়, পারিবারিক মনোমালিন্য ও বিরোধের জেরে তিন ভাই চেয়ারম্যান পদে একই সঙ্গে একই ইউনিয়নে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে, শহিদুল ইসলাম ও একরামুল হক চেয়ারম্যান থাকলেও জেদের বসে আরও এক ভাই এবার প্রার্থী হয়েছেন। শহিদুল হক সর্বশেষ এবং একরামুল হক নব্বইয়ের দশকে চেয়ারম্যান ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের আড্ডার আলোচনায় রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বি আপন তিন ভাই।

তারা একই পরিবারের হলেও ভোটযুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেছেন না। এতে তাদের নিয়ে চলছে সমালোচনা ও সমলোচনা ।

বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল হক ২০০৩ সাল থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে কালুপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বড় ভাই একরামুল হক ১৯৯১-৯৫ সালে চেয়ারম্যান ছিলেন।

তবে দুই ভাইয়ের সঙ্গে মেজো ভাই মোতালেব হোসেনও প্রার্থী হয়েছেন। গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট ভিক্ষা চাচ্ছেন।

ওই ইউনিয়নের ভোটার কৃষক সাদেক, মেরাজুল সহ কয়েকজন জানান, তাদের তিন ভাইকে নিয়ে আমরা চিন্তিত। তারা যেভাবে একে অপরের সমালোচনা করে ভোট চাইছেন, এতে গ্রামের মানুষ হাটে বাজারে, চায়ের দোকানে বসে হাসাহাসি করছেন।

তবে ভোটারদের এসব অভিযোগ নিয়ে চিন্তিত নন বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল হক। তিনি জানান, তার বড় দুই ভাই ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন। ভোটাররা এলাকার উন্নয়ন দেখে ভোট দেবেন।

সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, শহিদুল হক আমার ছোট ভাই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকে তিনি এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমার প্রতি এলাকার মানুষের আস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে মেজো ভাই মোতালেব হোসেন বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা সম্পর্কে ভাই হলেও অতীত দেখেই ভোটাররা পক্ষ নেবেন।

আমার ছোট ভাই শহিদুল চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেনি। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভোটাররা তার প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন।

তারা আমাকে নির্বাচনে অংশ গ্রহনের আহবান জানালে তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ভোটার কাছ থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, আশাকরি আমিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবো।

আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদসহ বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রার্থীদের প্রচারনায় বদরগঞ্জ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন বেশ জমে উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button