রংপুর

বদরগঞ্জে বিএডিসি’র অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ ,পানির নিচে ২ হাজার কৃষকের আমন চারা

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অর্থায়নে অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করায় প্রায় ২ হাজার কৃষকের আমন চারা তলিয়ে গেছে। সেতুর তলদেশ দিয়ে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাথায় চাষির মাথায় হাত পড়েছে। কিন্তু বিএডিসি কর্তৃপক্ষ বলছে সেতু নির্মাণের নকশায় কোন ত্রæটি নেই। আজ বুধবার(৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায় আমনের চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় পানি নিস্কাষনের জন্য ঘটনাস্থলে জড়ো হয় শতশত আমন চাষি।
স্থানীয় বিএডিসি সুত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণে মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের অধিনে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ একটি সেতু নির্মাণ করে। বদরগঞ্জ পৌরশহরের যুগিপাড়া-দামোদরপুর এলাকায় চলাচলের জন্য ফলিমারী খালের ওপর ওই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫২ লাখ ২৯ হাজার ৪৯৪ টাকা। এরমধ্যে গত সোমবার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলায় কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টির পানি প্রবাহে ফলিমারী খালের ওপর নির্মিত ওই সেতুর নিচের অংশে অপরিকল্পিতভাবে পানি প্রবাহের স্থানে ৫ ফুট উচু একটি প্রাচীর নির্মাণ করায় পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। পানি প্রবাহ কমে গিয়ে উজানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে রামনাথপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুকসিদপুর এলাকার আমন চারা পানিতে তলিয়ে যায়। অন্তত দুই হাজার একর জমির আমন চারা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাষিরা।
দক্ষিণ মুকসেদপুর গ্রামের ভুক্তভোগি কৃষক হাসিনুর রহমান বলেন, ‘বিএডিসি থেকে অপরিকল্পিতভাবে এই সেতু তৈরি করায় আমাদের সর্বনাশের মুখে পড়তে হলো। উজানের পানি ভাটি এলাকায় নামতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে দুই ঘন্টার বৃষ্টির পানিতে আমাদের আমন চারা তলিয়ে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমন চাষি মিজানুর রহমান বলেন, এবারে তিন একর জমিতে আমন চারা রোপন করেছি। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কচি চারা নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অপরিকল্পিত এই সেতু নির্মাণের বিষয়টি আমরা গত দুই মাস আগে স্থানীয় ইউএনও এবং বিএডিসি অফিসকে অবগত করেছি। তারা আমাদের পাত্তা দেয় নাই। এরফলে আমাদের সর্বনাশের মুখে পড়তে হলো।
রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চাষিদের বিপদের মুখে ফেলে অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করা হয়। পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ মুকসিদপুর এলাকার কৃষকদের চরম লোকশানের মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের রংপুর কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী শাহী আমীন বলেন, ‘সেতু নির্মাণের নকশায় কোন ক্রটি নেই। শুষ্ক মৌসুমে উজানের অংশে পানি ধরে রাখার জন্য সেতুর নিচে ৫ ফুট উচু প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এখন প্রয়োজনে সেতুর পাশে আলাদা ক্যানেল তৈরি করে পানির প্রবাহের বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
বিএডিসির পরিচালক (ক্ষুদ্র সেচ) জিয়াউল হক বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের জন্য সেতুর নিচে ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে শুস্ক মৌসুমে উজানের অংশে পানি ধরে রাখা যায়। এখন কেন পানির প্রবাহ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button