রংপুর

বদরগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের পাশে নৌকায় সিলমারা ব্যালট উদ্ধার

বি. আই. বাধন, বদরগঞ্জ (রংপুর):-
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ ডিসেম্বর। এর দু’দিনের মাথায় ইউনিয়নের মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে নৌকা প্রতীকের সিলসহ কিছু ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ওই কেন্দ্রের পাশে দশম শ্রেণির ছাত্র রিয়াজুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে সিল মারা বেশকিছু ব্যালট পেপার দেখতে পান।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে পুলিশ এসে উপস্থিত হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং অভিযোগ জানান। তারা বলেন, পুলিশ এবং প্রিজাইডিং অফিসার মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নৌকা প্রতীকের ব্যালট পেপার কেন্দ্রের বাইরে ফেলে দিয়েছে এবং পুড়ে ফেলেছে।

যে কারণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক হেরে গেছে। এ সময় তারা পুনরায় ভোট গ্রহণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, আমরা চারটি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছি। যেখানে নৌকা প্রতীক এবং মহিলা সংরক্ষিত প্রার্থীর প্রতীকের সিলসহ ব্যালট পেপার ছিল।

ওসি আরও জানান, আজিজুল হক সরকার পরপর ৩বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি অভিজ্ঞ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল হক সরকার মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ৪৩ ভোটে হেরে যান।

ওই ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল হক সরকার বলেন, মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন সাইদুল ইসলাম।

তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের আবুবকর সিদ্দিকের আত্মীয়। তার যোগসাজশে সেখানকার প্রিজাইডিং অফিসার এবং ভোটগ্রহণের অন্যান্য কর্মকর্তারা কৌশলে ভোটগ্রহণের সময় নৌকা প্রতীকের ব্যালট মারা সিল কেন্দ্রের বাইরে ফেলে দেয় এবং পুড়ে ফেলে। এ কারণে আমি ৪৩ ভোটে হেরে গেছি।

আজিজুল হক সরকার জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নৌকা প্রতীকের সিলসহ ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে তিনি ওই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে এ নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় ইউনিয়ন জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অপকৌশল দাবি করে মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ওই কেন্দ্রটি নৌকা প্রার্থীর বাড়ির কাছের এবং ওনি সহ ওনার পরিবারের সবাই ওই কেন্দ্রের ভোটার। আমি ওই কেন্দ্রে ৪৮৬ পেয়েছি, বিপরীতে ওনি পেয়েছেন ১৪৫৫ ভোট।

আমার ভোটাররা ভয়ে সেখানে ভোট করতে পারতো না। নৌকার লোকজন নির্বাচনে হেরে নানা রকম অপকৌশল ও মিথ্যা ছড়িয়ে বেরাচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button