রংপুর

মা-ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় সিআইডির এএসআই ও এক কনস্টেবল বরখাস্ত,পাঁচ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

তারার আলো অনলাইন ডেস্কঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর মা-ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির মামলায় রংপুর সিআইডি পুলিশের দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত দুই সদস্য হলেন এএসআই মো. হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক।

অপহরণ মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজন গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছেন। এজাহারভুক্ত বাকি পাঁচ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
রংপুর সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আতাউর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুরে মা-ছেলেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি। ঢাকা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো আদেশের লিখিত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি।’

গত মঙ্গলবার বিকালে মা-ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দিনাজপুর সদর উপজেলার দশমাইল মোড় এলাকা থেকে সিআইডির তিন সদস্য পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের আদালতে তোলা হয়। আদালত জামিনের আবেদন নামন্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, মাইক্রোবাস চালক হাবিব, নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার এনামুল হকের ছেলে ফসিউল আলম পলাশকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তারা আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। আসামি পলাশ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া দুই ভুক্তভোগী ও দুই সাক্ষীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের মৃত এন্তাজুল হকের ছেলে আরেফিন শাহ, শহরের ৬ নম্বর উপশহর খেরপট্টি এলাকার সোহেল, সুইহারী চৌরঙ্গী বাজারের রিয়াদ, ২ নম্বর উপশহর এলাকার সুমন ও ৩ নম্বর উপশহর এলাকার জাহিদ। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর পাঁচ আসামিকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। চলতি মাসে রংপুর সিআইডির কাছে পলাশ নামের এক ব্যক্তি চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট রাতে লুৎফরের বাড়িতে যান এএসপি সারোয়ার কবিরসহ তিনজন। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুক্তিপণ দাবি করেন তারা। পরিবারের লোকজনকে ফোন করে তারা ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ ও সিআইডি মিলে সদরের বাঁশের হাট থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button