রংপুরস্থানীয়

মুড়ির মিলের ছাইয়ে বিপাকে তারাগঞ্জের সাধারণ মানুষ

যেভাবে চোখে পড়ে ছাই

দিপক রায়:
তারাগঞ্জ বাজার থেকে চৌপথী বাসস্ট্যান্ড হয়ে উপজেলা পরিষদে মোটরসাইকেল যোগে আসছিলেন আব্দুল আলিম। তারাগঞ্জ উপজেলা চত্বরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস সহকারি ঠিকাদার আব্দুল আলিমের।

কিন্তু তারাগঞ্জ ডালিয়া ক্যানেলের ব্রীজ থেকে নামার পর তিনি যখন ব্রাদার্স অটো মুড়ির মিলের সামনে আসেন ঠিক সেই সময় তার চোখে কিছু ঢুকে পড়ে।

তাৎক্ষনিক তিনি তার মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের ধারে দাড় করান। এরপর মাথায় থাকা হেলমেটটি খুলে পকেট থেকে ব্যবহৃত রুমালটি বের করে চোখ মুছে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই তিনি তার চোখ পরিষ্কার করতে পারছিলেন না।

এরপর চোখ চেপে ধরে পথচারীদের সহযোগিতায় বাসায় পৌঁছান। বাসায় গিয়ে অনেক সময় নিয়ে চোখে পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এরপরও চোখে ঢুকে পড়া বস্তুটি বের হচ্ছিল না। এরপর তিনি তার স্ত্রীর সাথে অটোরিক্সা যোগে তারাগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক পরিতোষ সরকারের স্মরণাপন্ন হন। ওই চিকিৎসক আলিমকে একটি আই ড্রপ দেন।

কিন্তু তাতেও যেন কোন কাজ হচ্ছিল না। চোখের যন্ত্রনায় সারা রাত ঘুমাতে পারেননি আলিম। পরেরদিন আব্দুল আলিম চলে যান রংপুর দর্শনা এলাকায় অবস্থিত দ্বীপ আই কেয়ার সেন্টারে। সেখানে গিয়ে চোখের ডাক্তারের পরামর্শে চোখ ওয়াশ করান। চোখ ওয়াশ করার পর তার চোখ থেকে বের হয় এক টুকরো ছাই। তবে এতে আলিমের খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। এমনই ঘটনার বিবরণ দেন আব্দুল আলিম।

গত শনিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় তারাগঞ্জ বাজার থেকে বাসায় ফেরার সময় তারাগঞ্জ অটো মুড়ির মিলের সামনে চোখে ছাই ঢুকে পড়ে আব্দুল আলিমের। গত রোববার বিকেলে রংপুর থেকে চোখ ওয়াশ করে ফিরে এমনই ঘটনার বিবরণ দিচ্ছিলেন আব্দুল আলিম।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর তিনি যখন তারাগঞ্জ বাজার থেকে পরিবারের জন্য বাজার করে ফিরছিলেন সেই সময় এই ঘটনাটি ঘটে। মোটরসাইকেলে চলা অবস্থায় তার মাথায় হেলমেটও পড়া ছিল। কিন্তু তবুও অটো মিলের ছাকুনি বিহীন চিমনি থেকে বাতাশে মিশে যাওয়া অতি ক্ষুদ্র ছাইয়ের টুকরোগুলো প্রায়ই উপজেলা সদরে যাতায়াতকারী শত শত জনসাধারনের চোখে মুখে ঢুকে পড়ে। তাদের অনেকের সাথে তারার আলো প্রতিনিধিদের কথা হয়েছে। তারা তাদের চোখে ছাই পড়ার নানান অভিযোগের বর্ননা দিয়েছেন।

কিন্তু এতে যেন কিছুই আশে যায় না মিল মালিকের। ওই মিলের আশেপাশে প্রায় এ ঘটনার সাথে রয়েছে মিলের যন্ত্র চালুর অতিরিক্ত শব্দ দূষণ। আর প্রতিনিয়ত চলছে খোলামেলাভাবে ট্রলিতে করে মিলের ছাই পরিবহণের কার্যক্রম।

এতে দূষিত হয়ে পড়েছে উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামের দৌলতপুর, ব্র্যাকমোড়, উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ আশেপাশের প্রায় কয়েকটি গ্রাম।

জনবহুল ওই এলাকাগুলোর মানুষজন মুড়ির মিলের যন্ত্রের দিনরাত শব্দ দূষণের ফলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সেই সাথে গ্রামের নির্মল বাতাশে মুড়ির মিলের ছাই মিশে দুর্বিসহ করে তুলেছে তাদের জীবন।

এহেন পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে এলাকাবাসী স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button