কুড়িগ্রাম

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত কৃষক বানিয়ে ধান ক্রয়ে ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের তদন্ত

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামর উলিপুরে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত বানিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধান-গম সংগ্রহ করার নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা অনলাইন নিউজ পোর্টাল তারার আলো ডট কম ,তারার আলো প্রিন্ট সংস্করণ সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ হলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

খাদ্য বিভাগ তড়িঘড়ি করে তদন্ত টিম গঠন করলেও দুর্নীতিবাজ সেই গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছে।
জানা গেছে, উলিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী মিলে তৈরী হওয়া সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে লটারীতে নাম ওঠা প্রকৃত কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে ধান-গম ক্রয় দেখিয়ে ৫৯ লাখ ৯৬হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। আর ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকার মুনাফা।
এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে খাদ্য বিভাগ ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করে। কমিটির সদস্যরা হলেন, ডিসি ফুড লালমনিরহাট রফিকুল ইসলাম, টিসিএফ সদর রংপুর অমূল্য কুমার ও খাদ্য বিভাগের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী রসায়নবিদ (কেমিস্ট) মমিনুল ইসলাম। তদন্ত টিম গত ১৯ আগস্ট দিনব্যাপী তদন্ত সম্পন্ন করে রংপুর আঞ্চলিক অফিসে রিপোর্ট প্রদান করেন।
তবে তদন্তের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ওই গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় ফুঁঁসে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে আন্দোলনে নামার কর্মসূচি নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বঞ্চিত ভুক্তভোগী সহ কৃষক নেতারা।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষক লীগের আহŸায়ক ওমর ফারুক বলেন কৃষকবান্ধব এ সরকারের মহতী উদ্যোগ হচ্ছে, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়। এ নির্দেশ থাকলেও গুদাম কর্মকর্তাসহ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামে-বেনামে এমনকি মৃতদের থেকে কৃষক সাজিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারের অর্থ লুটপাট করলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি করছে। এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ সহ সরকারের এই মহতী উদ্যোগের সফলতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

তদন্ত কমিটির প্রধান রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেবেন কর্তৃপক্ষ। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হয়েছে আশা করি মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে।
এ ব্যাপারে খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) আবদুস সালাম জানান প্রতিবেদন পেয়েছি পর্যালোচনা করে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী চলতি প্রকিউরমেন্ট সম্পন্ন হলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button