রংপুরস্থানীয়

যৌন নিপীড়ন,টিকা প্রদানে গুজব সহ নানাবিধ অপকর্মের হোতা আ: সালাম এখনও বহাল তবিয়তে, যারা অভিযোগ করেছেন, তদন্তের অবস্থা

তারার আলো খবর: তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে তার অধীনস্ত নারী কর্মীর যৌন নিপীড়ন,হযরানী ও করোনার টিকা প্রদানে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তার কিছুই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক আ: ছালাম। এর আগেও একাধিক অভিযোগ হলেও তিনি এখনো তারাগঞ্জ উপজেলায় বহাল তবিয়তে। উপরে নিচে লোক থাকায় তার কিছুই হবে না বলে তিনি এমনই মন্তব্য করেছেন।


এমএইচভি প্রতিমা রানীর অভিযোগ:-

গত ২৪ আগষ্ট কাচনা কমিউনিটি ক্লিনিকের এমএইচভি প্রতিমা রানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহারের নিকট ওই স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এর আগে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন আপ্যায়নের টাকা আত্মসাৎ করায় এমএইচভি বৃন্দ গত ১৮ আগষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এর আগে এমএইচভি যোগদান ও তাদের প্রমোদন ভাতা প্রদানে অনিয়ম করায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর উজিয়াল মধ্যপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মাহামুদুর রহমান স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন রংপুর বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। ওই সময়েও তার বিরুদ্ধে সহ ওই সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তার খুঁটির জোরে তদন্ত কমিটির তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায়। রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ও রংপুর সিভিল সার্জন অফিসে আ: ছালামের নিকট আত্মীয় স্বজন সহ কাছের লোকজন থাকায় অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির তদন্ত গুলো সেখানে ধামাচাপা পড়ে যায় বলে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।

তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান এর অভিযোগ:-

তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান ওই স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সিভিল সার্জনসহ ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ।

অভিযোগে জানা গেছে, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে গনহারে টিকাদান কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেন। গত ৭ আগষ্ট দেশের অন্যান্য ইউনিয়নের ন্যায় তারাগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। প্রত্যেক ইউনিয়নে নিযুক্ত হন স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, গ্রাম পুলিশ ও আনসার বাহিনী।

তদারকির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরেরা। গনহারে টিকাদান কার্যক্রম চলাকালিন সময়ে ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের টিকাদান কেন্দ্র ডাংগীর হাট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এক নারী টিকা নেয়ার পর একটু অসুস্থ্যবোধ করলে কেন্দ্রের দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার এবং ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক(ইনচার্জ) আব্দুস সালামকে বিষয়টি অবহিত করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিকা নেয়া ওই নারীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীকে ওই নারীর দেখাশুনার দায়িত্ব দেন।

এমন সময় স্বাস্থ্য পরিদর্শক(ইনচার্জ) আব্দুস সালাম অ্যাম্বুলেন্সকে টিকাদান কেন্দ্রে ডাকেন। আম্বুলেন্স আসলে টিকা নিতে আসা লোকজন সেখানে ভিড় জমালে স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস ছালাম টিকা প্রদানে গুজব ছড়িয়ে দেয় যে, ওই নারীকে করোনার টিকা দেয়ার পর তিনি অসুস্থ্য হয়েছেন। গুজবের এমন সংবাদ পেয়ে টিকা নিতে আসা লোকজনের মধ্যে অনেকেই বাড়িতে ফিরে যান। এখবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস ছালাম উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বাবুলসহ অন্যান্য লোকের সম্মুখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন।

এতে গত ৯ আগষ্ট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মোতাহারুল ইসলাম বরাবরে স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে টিকা প্রদানে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কার্নিজ ফাতেমা ও পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন। অভিযোগ দাখিলের পর মঙ্গলবার ৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে । তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে কি না, এ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়,তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শীঘ্রই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস সালাম মোঠোফোনে তারার আলোকে জানান,যারা অভিযোগ করেছেন তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। কেন করেছেন,তা আমি জানি না। তবে তদন্ত কমিটি হউক আর যাইহোক আমার কিছুই হবে না। এর আগেও অনেকে অভিযোগ করেছে, আমার কিছুই হয়নি। আমি তারাগঞ্জে চাকুরি করছি। উপরে নিচে লোক থাকলে তার কিছুই হয় না। অভিযোগকারীদের বোঝা উচিৎ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button