রংপুরস্থানীয়

রংপুর মেডিকেলে আগুন: এক রোগীর মৃত্যু, ৫০ রোগী আহত, মালামাল লুট

তারার আলো অনলাইন ডেস্ক:-
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয়তলায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এতে ওই ওয়ার্ডের ১৫টি বেডসহ কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে তড়িঘড়ি করে রোগীরা বের হবার সময় পদপিষ্ট হয়ে ৫০ জনেরও বেশি রোগী আহত হয়।

আগুন লাগার সময় আতঙ্কিত হয়ে রহিমা বেগম (৭৫) নামে এক নারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

অন্যদিকে, প্রাণ বাঁচাতে ওই ওয়ার্ডের রোগী ও তাদের স্বজনরা তড়িঘড়ি করে নিচে নামায় তাদের মালামাল লুট হয়েছে। এ ঘটনার পর রোগী ও তাদের স্বজনরা কোন মালামাল পাননি বলেও অভিযোগ তাদের। রংপুর মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক মানসিক রোগী তার বেডের পাপসে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে তা অন্যান্য বেডে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো ওয়ার্ডসহ হাসপাতালে প্রচণ্ড ধোঁয়া তৈরি হয়। আগুন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি কক্ষেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বেশ কয়েকটি বেড পুড়ে যায়। সেই সাথে ৪টি কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স আসমা বেগম ও ব্রাদার সহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তারা ওয়ার্ডেই দায়িত্বরত ছিলেন। হঠাৎ করে আগুন লাগায় প্রচণ্ড ধোয়ার কুন্ডলীতে পুরো ওয়ার্ড অন্ধকারে ছেয়ে যায়।

১২ নম্বর বেডের রোগী আসলাম জানান, তার পাশে ১০/১২ বছর বয়সী এক মানসিক রোগী দেয়াশলাই দিয়ে তার বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আগুন অন্যান্য বেডসহ পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। হুড়াহুড়ি করে তৃতীয় তলা থেকে নীচে নামতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন রোগী ও তাওেদর স্বজন আহত হয়।

এদিকে আগুন লাগার খবর জানাজানি হলে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পুরো হাসপাতালের এক হাজারের বেশি রোগী ও তাদের স্বজন আতংকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে আসে।

এদিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে সোয়া ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করেন।

তিনি অপেক্ষারত সাংবাদিকদের জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় রোগীদের হাসপাতাল থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, আগুন লাগা ৭ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা অর্ধশতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা গেছে কিনা এখনও শোনেননি, ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বলেও জানান তিনি।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজু জানান, এই ওয়ার্ডে চর্ম যৌন, ফিজিকাল মেডিসিন, মানসিক রোগীসহ ৭টি বিভাগের রোগীরা অবস্থান করে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সোয়া একঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্তণে আসে।

মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ বলেন, “বিপুল সংখ্যক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কাজ করছে।”
সূত্র: বিটি / লিবি/টিএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button