জাতীয়

রাজশাহী বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় জামিন পেলেন

তারার আলো অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন রাজশাহী বিএনপির তিনজন শীর্ষ নেতা। বুধবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের দ্বৈত বেঞ্চ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

ভার্চুয়ালি জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। জামিনপ্রাপ্ত বিএনপির নেতারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

এ মামলায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আসামি। তবে তিনি জামিন নিতে হাইকোর্টে যাননি। জামিন পাওয়া তিন নেতার ফাইলিং আইনজীবী ছিলেন মাহমুদুল হাসান স্বপন। তাঁর সঙ্গে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী।

বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বুধবারের কার্যতালিকায় তাঁদের মামলাটি ছিল ৭২ নম্বরে। ভার্চুয়ালি শুনানি শেষে দুপুরে হাইকোর্ট আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এরপর তাঁরা নিন্ম আদালতে হাজির হবেন। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও কয়েকদিনের মধ্যে হাইকোর্টে জামিন চাইবেন বলে জানান তিনি।

জানা যায়, বিএনপির এই চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। গত ২ মার্চ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়। সমাবেশে বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিয়েছেন বলে মামলার আর্জিতে অভিযোগ করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর ‘আজ রাত কাল সকাল না-ও হতে পারে। পঁচাত্তর মনে নাই?’ বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়। মহানগর আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইতে তাঁকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। তা না হলে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৭২ ঘণ্টা পর মিনুর পক্ষে মহানগর বিএনপির এক নেতা বিবৃতি দিয়ে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানান। তবে মহানগর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জন্য আবেদন করে। জেলা প্রশাসক আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দেওয়ার পর মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম ১৬ মার্চ রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এ (আমলি আদালত বোয়ালিয়া) রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করেন। এরপর আদালত এই চার নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে প্রায় পাঁচ মাসেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই সময়ের মধ্যে বিএনপি নেতারা জামিনও নেননি। অবশেষে তিনজন বুধবার হাইকোর্টে গিয়ে জামিন নিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button