লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে সমতল ভূমিতে চা চাষে অধ্যক্ষের সফলতা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সমতল ভূমিতে চা চাষ করে সফল হয়েছেন বোর্ডেরহাট আর্সিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ধনঞ্জয় কুমার রায় বিপুল। তিনি স্থানীয় কৃষিতে সৃষ্টি করেছেন একটি নতুন সম্ভাবনাময় খাত। এতে সমতল জমিতে চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের।

শখের এই চা বাগান গড়ে তুলে একদিকে তিনি নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন অপরদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন শতাধিক বেকারের। যার বেশির ভাগই সুবিধা পাচ্ছেন ওই এলাকার দিনমজুর ও দুস্থ নারীরা। ওই এলাকায় চা চাষে আলোড়ন সৃষ্টি করার পাশাপাশি বাগানটি দেখতে প্রতিনিয়ত ভীড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার লোকজন।
এক সময় ভাবা হতো পাহাড়ি এলাকা কিংবা ঢালু জায়গা ছাড়া চা চাষ করা অসম্ভব। কিন্তু এই ধারনা অনেক আগেই পাল্টে গেছে। এখন সমতল পর্যায়ের অনাবাদি জমিতেই চায়ের ভালো চাষ হচ্ছে। অসম্ভব এই কাজকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন চা বাগানের মালিক ধনঞ্জয় কুমার রায় বিপুল। তিনি লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং গোতামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া বাজারে গেলেই চোখে পড়ে বাজারের উত্তর পাশের অবস্থিত চা বাগানটি। অতি সহজভাবেই সমতল অনাবাদী জমিতে চা চাষ করে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বিপুল। দুই বিঘা জমির উপর নির্মিত চা বাগানটির নাম রেখেছেন বৈকুন্ঠ চা বাগান।

অধ্যক্ষ ধনঞ্জয় কুমার রায় বিপুল বলেন, ২০০৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজের এক শিক্ষাসফরে চা বাগান দেখতে পঞ্চগড়ে যাই। সেখানে চা চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হই। পরে হাতীবান্ধা চা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০১০ সালে দুই বিঘা জমিতে চা চাষ শুরু করি। প্রতিমাসে ৬-৭ বার চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। চা পাতা প্রতিকেজি ৩২-৩৩ টাকা করে বিক্রি হয়। বাগান থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, চা পাতা সংগ্রহ করে হাতীবান্ধা থেকে পঞ্চগড় নিয়ে যেতে খরচ বাবদ প্রায় চার হাজার টাকা লাগে। স্থানীয় ভাবে একটি শিল্পকারখানা হলে এই খরচ হবে না। আরও লাভবান হবো। তাই আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করবো স্থানীয় ভাবে শিল্পকারখানা তৈরির জন্য। চা চাষ একটি সহজলভ্য চাষ, এটি অন্যান্য কৃষি চাষাবাদের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং লাভজনক। এখন সমতলেও চা চাষ করা সম্ভব, তাই কৃষকরা এখন চা চাষ করে সহজেই লাভবান হতে পারে।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, পাটিকাপাড়া, দইখাওয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সমতল জমিতে চা চাষ বেড়েছে। পাশাপাশি চা চাষ একটি সহজলভ্য এবং লাভজনক হওয়ায় মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, দিনে দিনে মাটির পিএইচ কমে যাচ্ছে। ফলে অ্যাসিডিক সৃষ্টি হচ্ছে, যা চা চাষের উপযোগী। তাই উপজেলার যেকোনো জায়গায় চা চাষ করা সম্ভব। তবে মাটির পিএইচ কমে যাওয়ায় অন্যান্য ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button