কুড়িগ্রাম

শ্রাবণে খরা : পানির অভাবে আমন রোপন নিয়ে দুর্চিন্তায় কৃষক

তারার আলো খবরঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে শ্রাবণ মাসেও বৃষ্টির দেখা নাই। খাল বিল প্রায় সব
পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। খরায় পুড়ছে বীজতলা, কৃষকরা আমন রোপন করতে
পাচ্ছে না। আমন রোপনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ফলে চলতি আমন মৌসুম
নিয়ে মহা দুচিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। বিচিত্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার
আমন মৌসুম মারাক্তক ঝুঁকিতে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি না হলে আমনের
জমি পতিত থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে। কতিপয় কৃষক সেচের মাধ্যমে
আমন রোপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকাল খরার কবলে পড়ায় আমন
মৌসুম এর লক্ষমাত্রা ব্যর্থ হওয়ার আশংকা করছেন কৃষিবিদরা। কুড়িগ্রাম
আবহাওয়া অফিস জানায় গত বছরে জুন/ জুলাই মাসে ৮৮৬ মিলিমিটার
বৃষ্টি পাত হলে ও চলতি বছরে জুলাই মাস শেষ হচ্ছে। কিন্ত বৃষ্টি পাত হয়েছে
মাত্র ১৮২ মিলিমিটার। যা গত ৭ বছরের মধ্যে সব চাইতে খারাপ নজির।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি আমন মৌসুমে ২৪ হাজার ৫’শ ৩৫
হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নিধারন করা হলেও কাঙ্খিত বৃষ্টি পাত না
হওয়ায় খাল বিল গুলো পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। উচু জমি গুলো পানির অভাবে
ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ফলে মৌসুমের শেষ দিকে এসেও রোপা আমন
চারা রোপন করতে পাচ্ছে না কৃষকরা। এদিকে বীজতলা গুলো পানির অভাবে ও
বয়স বেড়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু কৃষক বাধ্য হয়ে সেচ
দিয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টরে চারা রোপন করেছে। চলতি শ্রাবণে মাত্র ২/৩দিন
বৃষ্টি হয়েছে। যা অন্যবারের তুলনায় এক ভাগও নয়। এ অবস্থায় আমন মৌসুম
মারাক্তক ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষি বিভাগ ইতিমধ্যে বরেন্দ্র প্রকল্প ও কৃষকদের
সেচ দিয়ে চারা রোপনের পরামর্শ দিচ্ছে কিন্ত সব কৃষকের সেচ দিয়ে
চারা রোপন করার সাামর্থ্য না থাকায় এবার আমনের সিংহ ভাগ জমি পতিত
থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে।
উলিপুর পৌরসভা, বজরা, হাতিয়া, পান্ডুল, দলদলিয়া, ধরণীবাড়ী, ধামশ্রেনী,
গুনাইগাছ, থেতরাই, ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ডুবাচরীর বিল, মাইন্দরার,
বিল, চিড়া খাওয়ার বিল, নিরাশির বিল, পুঁটিগাড়ীর বিল পানি শুন্য জমি
গুলো পতিত পড়ে রয়েছে। কিছু জমি হাল চাষ করেছে কিন্ত পানির অভাবে
জমি ফেঁটে যাচ্ছে। উচু পতিত জমি গুলোতে গবাদী পশু ছেড়ে দিয়ে ঘাস
খাওয়ানো হচ্ছে।
চিড়া খাওয়ার পাড় গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম (৪৫) জানান, বিলে
আমার ৫ একর জমি আছে এখন পর্যন্ত একটি গুছি লাগাতে পারিনি।
বীজতলা বয়স হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গুনাইগাছ এলাকার কৃষক নুর ইসলাম
(৫০) জানালেন, আমার ১০ একর জমি পানির অভাবে চারা রোপন করতে পাচ্ছি
না। বোরো ও আমন দুটো আবাদ আমাদের সম্বল। কিন্ত দুটো মৌসুম
সেচ দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। তাই আমন আবাদ নিয়ে বড় চিন্তায়

পড়েছি। বজরা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন জানান বরেন্দ্র প্রকল্প থেকে
যদি ভুর্ত্তকি দিয়ে পানি দেয় তাহলে আমন রোপন করা সম্ভব হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ আবু হাসনাত
জানান, আমাদের সেচ পাম্প গুলো চালু আছে কৃষকরা চাইলে আমরা পানি
সরবরাহ করব। তবে ভুর্ত্তকির বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন নির্দেশনা নাই।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বর্ষাকাল বৃষ্টি
বিহীন হওয়ার কারণে খাল বিলে পানি নেই। ফলে কৃষকরা পানির অভাবে চারা
রোপন করতে পাচ্ছে না। আমরা কৃষকদের সেচ দিয়ে রোপনের পরামর্শ দিচ্ছি।
তবে সেচের ব্যাপারে কৃষকদের তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ফলে
চলতি আমন মৌসুমে জমি পতিত থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button