নীলফামারী

সৈয়দপুরে নিখোঁজের চারদিন পর এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

তারার আলো অনলাইন ডেস্কঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরের একটি পল্লীতে নিখোঁজের চার দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ
ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর)সকালে লাভলী বেগম (২৫)
নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পশ্চিমপাড়ায়
তাঁর বাড়ির পিছনের একটি বাঁশঝাড়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার
করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী রেজাউল ইসলাম (৩০)ও শ্বাশুরী ইছরা
বেগমকে (৫০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা ২ নম্বর মন্মথপুর
ইউনিয়নের দলবাড়ীপাড় এলাকার তাজনগর বল্লামপুর গ্রামের মো. বাবুল হোসেনের
মেয়ে লাভলীর বেগম সঙ্গে গত ২০১৩ সালে বিয়ে হয় সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর
ইউনিয়নের লক্ষণপুর পশ্চিমপাড়ার আফজাল হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলামের। রেজাউল
ইসলাম বাড়ির সামনে মেশিনের সাহায্যে খড় (বিচালি) কাটিয়ে উপার্জিত
অর্থে জীবন নির্বাহ করে আসছেন। ওই দম্পতির লাবিব (৬) এবং মোছা. মাওয়া (৪)
নামের দুই সন্তান রয়েছে। দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ লাভলী বেগমকে গত মঙ্গলবার
(২৩ নভেম্বর) থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে স্বামী
পরিবারের পক্ষ থেকে সৈয়দপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করা হয়। এছাড়া তাঁর
সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এর অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (২৬ নভেম্বর)
সকালে নিখোঁজ গৃহবধূ লাভলীর মরদেহ তাঁর বাড়ির পাশের জনৈক মোখলেছুর
রহমান দুলু সরকারের বাঁশঝাড়ে দেখতে পান একই এলাকার নুর মোহাম্মদের স্ত্রী
রোজিনা খাতুন। পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান
হাবীব ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশঝাঁড় থেকে লাশ নামিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি
করেন। তিনি (এসআই আহসান হাবীব) জানান, ওই গৃহবধূকে ২/৩ দিন আগে
হত্যা করা হয়েছে বলে তার উদ্ধারকৃত লাশের বর্তমান অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে
ধারণা করা হচ্ছে। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর
আধুনিক হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।
তবে নিহত গৃহবধূর নিকটাত্মীয় মামা আমিনুল হক, ফুফু রোজী ও আর্জিনা
বেগম অভিযোগ করে বলেন, ওই গৃহবধূ লাভলীর স্বামীই তাকে দম্পাত্য কলহের কারণে
পিটিয়ে হত্যা করেছে। আর হত্যা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রথমে
তাকে নিখোঁজ বলে প্রচার করে। পরে বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ে তাঁর (গৃহবধূ) লাশ
গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান ঘটনার সত্যতা
নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও শ্বাশুড়ীকে
আটক করা হয়েছে। এ রির্পোট পাঠানো পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কোন মামলা
হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button