নীলফামারী

সৈয়দপুরে ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান

স্টাফ রিপোর্টার,সৈয়দপুর (নীলফামারী)\
নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। শহরের উপকন্ঠে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণপুর মাঝাপাড়া এলাকায় এটির সন্ধান মিলেছে।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার রায়ের নেতৃত্বে গত রোববার (৭ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত অবধি ওই ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে অভিযান চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এ সময় প্রশিক্ষণ ফ্রি বাবদ নেওয়া অর্থ আদায় করে তা প্রশিক্ষণার্থীদের ফেরত প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ওই ভুয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির পরিচালক পরিচয়দানকারী তথা প্রশিক্ষক উমর ফারুকের কাছ থেকে এ ধরণের ভুয়া প্রতিষ্ঠান না চালানো বিষয়ে একটি লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে উমর ফারুক। তিনি শহরের উপকন্ঠে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণপুর মাঝাপাড়ায় একটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকায় জনৈক মনসুর আলীর পাশাপাশি দুইটি বাড়ি ভাড়ায় নেয়। গত ১৫ দিন আগে ভাড়ায় নেওয়া ওই দুই বাড়িতে “সৈয়দপুর ডেইরী এন্ড ব্রিডিং লিমিটেড” নামে একটি কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ বিষয়ক কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়।

এর মধ্যে একটি বাড়িতে দূর-দূরান্তের প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ কক্ষ এবং অপরটিতে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এরপর কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নিয়োগকৃত কিছু দালালের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বেকার শিক্ষিত যুবককে প্রশিক্ষার্থী সংগ্রহ করা হয়। ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ দেয়ার নামে প্রশিক্ষণ ফ্রি বাবদ প্রতিজন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা করে অগ্রিম আদায় করা হয়েছে।

আর ওই ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গত রোববার (৭ আগস্ট) দ্বিতীয় ব্যাচের তৃতীয় দিনের প্রশিক্ষণ চলছিল। এর আগে সেখানে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়। আর ওই দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষার্থী ছিল ১৫ জন।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার রায় গত ৭ আগস্ট বিশ্বস্ত ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উমর ফারুকের ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আকস্মিক অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে ওই ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গড়ে তোলার মূল হোতা উমর ফারুক এবং বিভিন্œ জেলা ও উপজেলার আট প্রশিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়।

এ সময় উমর ফারুক ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি। পরে ভুয়া প্রশিক্ষণটির পরিচালক উমর ফারুকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ ফ্রি বাবদ নেয়া অর্থ আদায় করে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও ভবিষ্যতে আর এমন ভুয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করবে না মর্মে উমর ফারুকের কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার তিতোপাড়ার জয়নুল হকের ছেলে প্রশিক্ষণ নিতে আসা শাহিনুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড়ের জনৈক আব্দুল গফুরের মাধ্যমে তিনি ওই কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজ পেয়ে সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। আর তিনি অগ্রিম প্রশিক্ষণ ফ্রি বাবদ ১৩ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন।

সূত্র জানান, উমর ফারুক এক সময় একটি বেসরকারি সংস্থার কৃত্রিম প্রজনন কর্মী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ওই ভুয়া কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষিত যুবকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি এখন পর্যন্ত ৩১৫ জন প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের নামে প্রশিক্ষণ ফ্রি বাবদ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। সূত্র জানান, সময়ে সময়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।

অভিযানকালে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. মো. শাহাজাদা সরকার ও ওয়ার্ড সদস্য মো. ছাবেদ আলী, উপসহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার রায় জানান, ভেটেরিনারী শিক্ষা কার্যক্রম কিংবা প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ভেটেরিনারী কাউন্সিল থেকে অনুমোদন গ্রহন করতে হয়।

ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক উমর ফারুক কোন রকম কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আর কাউন্সিলের স্বীকৃতি ব্যতিরেকে ভেটেরিনারী শিক্ষা কার্যক্রম কিংবা প্রশিক্ষণ প্রদান করা দন্ডনীয় অপরাধ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button