নীলফামারীস্থানীয়

সৈয়দপুরে শ্বশুর বাড়িতে অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, সৈয়দপুর (নীলফামারী):
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আলমগীর হোসেন (৩২) নামের এক অটোরিকশা চালককে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৮ মে) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শহরের উপকন্ঠে ঢেলাপীর উত্তরা আবাসনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ী আবেদা খাতুন ওরফে হাইজানীসহ চার জনকে থানায় নেয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিহতের লাশের সুরহাল রিপোর্ট তৈরি করছিলেন থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার আট নস্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া (সর্দারপাড়া) তছলিম উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন। প্রায় ৭/৮ বছর আগে সৈয়দপুর শহরে উপকন্ঠে ঢেলাপীর উত্তরা আসাবনের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও আবেদা খাতুন হাইজানি দম্পতির মেয়ে মোছা. আতিকা বেগমকে ভালবেসে বিয়ে করেন আলমগীর হোসেন।

বিয়ের পর থেকে আলমগীর উত্তরা আবাসনের বাঙ্গালীপট্টির ২৪/৭ নম্বর কোয়ার্টারে স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। আলমগীর ও আতিকা দম্পতির ৬ বছর ও চার বছর বয়সী দুইটি শিশু পুত্র সন্তান রয়েছে। আলমগীর পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। তাঁর স্ত্রী আতিকা বেগমও নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডে কাজ করেন।

ঘটনার দিন গতকাল বুধবার সকালে আলমগীরের স্ত্রী আতিকা বেগম তরনী যথারীতি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কাজে চলে যান। ওই দিন বিকেলে আনুমানিক পাঁচটার দিকে আলমগীরের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম ঢেলাপীর অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চেইন মাষ্টারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় জনৈক এক নারী এসে আতিকুলকে খবর দেয় তাঁর ছোট ভাই আলমগীরকে কে বা কারা গলা কেটে জবাই করে ফেলে রেখে গেছেন।

এ খবর পেয়ে আতিকুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ভাই আলমগীরের শ্বশুর বাড়িতে ছুঁটে যান। এ সময় তিনি আলমগীরকে গলা কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। এ অবস্থায় আতিকুল ইসলাম তৎক্ষণাৎ তাঁর সঙ্গীয় জনৈক ফরমানের সহযোগিতায় ছোট ভাই আলমগীরকে গলা কাটা ও রক্তাক্ত উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত. ঘোষণা করেন।

এরপর খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ রিপোর্ট পাঠানো (রাত ৯ টায়)পর্যন্ত লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি কাজ চলছিল।

তবে কে বা কারা কি কারণে অটোরিকশা চালক আলমগীরকে গলা কেটে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। এ ঘটনায় শ্বাশুড়ী আতিকা বেগমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসানাত খান জানান, এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বাশুড়ীসহ চারজনকে থানায় নেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button